ছন্দে ছন্দে সমাস শিখি !
v ও,এবং,আর মিলে যদি হয় দ্বন্ধ
v সমাহারে দ্বিগু নয় সেটা মন্দ।
v যে,যিনি,তিনি যদি হয় কর্মধারয়
v যাহার বাক্যের শেষে থাকলে তাকে বহুব্রীহি কয়।
v বিভক্তি লোপ পেলে যদি তৎপুরুষ হয়।
v বিভক্তি না লোপ পেলে তাকে অলুক কয়।
v তবে ব্যয়হীন পদটি সব সময় অব্যয়ী হয়।
[ বি.দ্র: 'যে যদি ব্যাসবাক্যেরর মাঝখানে থাকে,তাহলে সেটি 'কর্মধারয়' সমাস হবে।কিন্তু 'যে' যদি ব্যাসবাক্যেরর শেষে থাকে,তাহলে সেটি 'উপপদ তৎপুরুষ' সমাস হবে। যেমন, নীলাকাশ=নীল যে আকাশ (কর্মধারয় সমাস)। পকেটমার= পকেট মারে যে (উপপদ তৎপরুষ সমাস)।
১.দ্বন্দ্ব সমাস : চেনার উপায়- ব্যাসবাক্যে 'ও' 'এবং' 'আর' থাকবে। উভয় পদের অর্থ প্রাধান্য পাবে।
সমীকরণ :সমজাতীয় পদ + ও + সমজাতীয় জাতীয় পদ।
উদাহরণ : মাতা + ও + পিতা= মাতাপিতা
চা + ও + বিস্কুট = চা-বিস্কুট
অহি + ও + নকুল = অহি-নকুল
২.কর্মধারয় : চেনার উপায়: খুব বেশি প্রশ্ন পরীক্ষায় আসে এখান থেকে। কর্মধারয় সমাসে "যে/যে-সে/যিনি-তিনি/যারা" এই শব্দগুলো থাকবেই।যেমন:'চালাকচতুর' এটি কোন সমাস? 'চালাকচতুর' মানে যে চালাক সে চতুর; তাহলে এখানে 'যে' কথাটি আছে, অতএব এটি কর্মধারয় সমাস।'জজসাহেব' এটি কোন সমাস? 'জজসাহেব' মানে যিনি জজ তিনি সাহেব; তাহলে এখানে যিতি-তিনি কথাটি আছে,অতএব এটি কর্মধারয় সমাস।
গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু উদাহরণ : নীলাম্বর=নীল যে অম্বর; নীলাকাশ=নীল যে আকাশ;কদাচার= কু যে আচার;সুখবর =সু যে খবর;খাসমহল=খাস যে মহল;হারামণী হারিয়েছে যে মণি;মহাকীর্তি=মহতী যে কীর্তি; কাঁচা-মিঠা=যা কাঁচা তা মিঠা; নরাধম= অধম যে নর;শ্বেতবস্ত্র=শ্বেত যে বস্ত্র; নবান্ন =নব যে অন্ন;
৩. তৎপুরুষ সমাস: সহজে চেনার উপায়: পূর্বপদে দ্বিতীয়া বিভক্তি থেকে শুরু করে সপ্তমী বিভক্তী পর্যন্ত যে কোন একটি থাকবে কিন্তুু সমস্ত পদে সেই বিভক্তি লোপ পেয়ে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পাবে। যেমন-
বিপদকে আপন্ন=বিপদাপন্ন ;দুঃখকে প্রাপ্ত =দুঃখপ্রাপ্ত; আয়ের জন্য কর=আয়কর; বিয়ের জন্য পাগলা=বিয়ে পাগলা
রাজারর পুত্র=রাজপুত্র; গুরুকে ভক্তি=গুরুভক্তি;মন দিয়ে গড়া=মনগড়া;
৪. বহুব্রীহি সমাস: চেনার উপায়: যে সমাসে পর্বপদ বা পরপদ কোনটির অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করবে।কিন্তুু আমাদের মনে রাখতে হবে, বহুব্রীহি সমাস ৮ প্রকার। তবে এর মাঝে গুরুত্বপূর্ণ বহুব্রীহি সমাস হলো ব্যতিহার বহুব্রীহি,অলুক বহুব্রীহি ও নঞ্ বহুব্রীহি সমাস।
টেকনিক: ব্যাসবাক্যে বিশেষণ + বিষেশ্য + যে/যার থাকবে
উদাহরণ: নীল + কন্ঠ + যার= নীলকন্ঠ
আশীতে +বিষ +যার = আশীবিষ
একইভাবে,কথা সর্বস্ব যার= কথাসর্বস্ব; নাই তার যার =বেতার; সে(তিন) + তার + যার = সেটার
৫.দ্বিগু সমাস: চেনার উপায়: সে সমাসের প্রথমে থাকবে সংখ্যা এবং শেষে থাকবে সমাহার সেটা হবে দ্বিগু সমাস।যেমন- দ্বিগু শব্দের 'দ্বি' মানে কী? 'দ্বিতীয় 'শব্দতটিতে 'দ্বি' আছে না? আমরা ২ বোঝাতে 'দ্বি'শব্দটি ব্যবহার করি। এখানে ২ কিন্তু একটি সংখ্যা। তাহলে যে শব্দে সংখ্যা প্রকাশ পাবে এখন থেকে সেটাকে 'দ্বিগু' সমাস বলে ধরে নিবেন।
সমীকরণ : সংখ্যা + বিশেষ্য + এর + সমাহার
উদাহরণ=পঞ্চ(পাঁচ) + নদীর(নদী+এর) + সমাহার = পঞ্চনদ
একইভাবে-চৌ(চার) রাস্তার সমাহার=চৌরাস্তা
চতুরঙ্গ=চার অঙ্গের সমাহার ; শতাব্দী= শত অব্দের সমাহার; পঞ্চভূত= পঞ্চভূতের সমাহার
৬. অব্যয়ীভাব সমাস: চেনার উপায়: অব্যযীভাব সমাসে 'অব্যয়' কথাটি নিহিত। অর্থাৎ, যে সমাসের সমস্ত পদের প্রথমে কোন অব্যয় থাকে এবং সেই অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে অব্যযীভাব সমাস বলে।
যেমন- ব্যাসবাক্যে সমীপে,সদৃশ,মতো,পুনঃপুনঃ(পদের দ্বিত্ব),অভাব,পর্যন্ত, অতিক্রম না করে,অতিক্রান্ত,বিরুদ্ধ,যোগ্য, ক্ষুদ্র,পশ্চাৎ,ঈষাৎ,প্রতি অব্যয় থাকবে।
উদাহরণ: কূলের সমীপে= উপকূল; কন্ঠের সমীপে= উপকন্ঠ; বনের সদৃশ= উপবন: ভিক্ষার অভাব= দুর্ভিক্ষ; মরণ পর্যন্ত= আমারণ;গমনের পশ্চাৎ= অনুগমন;ঈষৎ রাজি= নিমরাজি ।
বিস্তারিত |
Labels: somash, বাংলা গ্রামার সামাস, সমাস



<< Home